খাবারের অভাবে শিশুর আত্মহত্যা

Read Time:3 Minute, 21 Second

সিরাজ’গঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় আফরোজা খাতুন (১০) নামে এক শিশু আত্ম’হত্যা করেছে। শুক্র’বার বিকেলে গলায় ফাঁস নিয়ে নিজ বাড়িতে সে আত্ম’হত্যা করে। স্বজন’রা দাবি করেছেন, কয়েকদিন ধরে অনাহারে পরিবার’টি। খাবারের জন্য কান্না’কাটি করায় পিতা থমক দেন আফরোজা’কে। তারপরই ঘটে আত্ম’হত্যার ঘটনা। খাবারে’র অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় প্রতি’ক্রিয়া তৈরী করেছে।

আফরোজা’র পিতা আলম শেখ পেশায় তাঁত শ্রমিক। থাকেন কামার’পাড়া ওয়াপদা বাঁধে। দুস্থ এ পরিবার’টির সন্তান আফরোজা আত্ম’হত্যা করেছে মূলত ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে। শুক্রবার বিকেলে সে কয়েক দফা খাবার চেয়েছে বাবার কাছে। কিন্তু খাবারের বদলে ধমক শুনতে হয়েছে শিশুকে।

স্বজন’রা দাবি করেছেন, তাঁত শ্রমিক আলম শেখের কার’খানা বন্ধ দশদিন। জমা টাকা’য় ৪/৫দিন সংসার চললেও গত কয়েক’দিন কার্যত অনাহারে ছিলেন শিশুসহ পরিবারের সদস্য’রা। এ সময়ে আলম পান’নি সরকারি অথবা ‘সহায়তা। কেউই খোঁজ নেননি। আফ’রোজার মৃত্যুর পর অনেকে এসেছেন বাড়ি’তে। পৌর মেয়র শনি’বার খাদ্য’সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ওয়াপদা বাঁধে প্রায় ৫ শ পরিবা’রের বাস। জন প্রতি’নিধিরা তাদের অনেকের আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও ত্রাণ সহায়তা মেলে’নি।

বাবা আলম শেখ বলেন, করোনা’ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রশাসন কড়া’কড়ি করছে। তাই দশ’দিন ধরে কাজ করতে পারছিনা। ঘরেই শুয়ে বসে দিন কাটা’চ্ছি। হাতে নগদ টাকা নাই,তাই চাল-ডাল কিনতে পারিনি। ঘরে খাবার নেই বলে মেয়ে কান্না’কাটি করছিল। আমি তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে’ছিলাম। এরপর মেয়েটা আত্ম’হত্যা করেছে। বেল’কুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর-এ-আলম বলেন, শিশুর পরি’বারের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তা’ন্তর করা হয়েছে।

বেল’কুচি পৌর’সভার মেয়র আশা’নূর বিশ্বাস বলেন, কর্মহীন দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য অপ’র্যাপ্ত। সে কারণে সকল মানুষকে এক’সাথে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। খাদ্য সহা’য়তা আরো বাড়ানো দরকার। বেলকুচির উপ’জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান বলেন, প্রথম দফায় পরিবার’টিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়ে’ছিল। তার’পরও কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনি’বার আবারও পরিবার’টিকে ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল,পেঁয়াজ, লবণ ও আলু দেওয়া হয়েছে।

0 0
Happy
Happy
0
Sad
Sad
1
Excited
Excited
0
Sleppy
Sleppy
0
Angry
Angry
0
Surprise
Surprise
0